পেমেন্ট প্রসেসর

ভূমিকাঃ

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে/পেমেন্ট প্রসেসর বিষয়টা অনেক বড় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টা অনেক জটিল। তবে বিকাশ, শিওর ক্যাশ, রকেট এর নাম শোনেননি এমন মানুষ মনে হয় এদেশে খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাবে। এদশের গ্রামে-গঞ্জের একজন অশিক্ষিত মানুষও্ আজকাল বিকাশ বা রকেট এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে আসছে। একবার ভাবুনতো, আপনি যে টাকাটা বিকাশে পাঠান সেটাই কি প্রাপককে দেয়া হয়, নাকি সমপরিমাণ টাকা অপর প্রান্ত থেকে পরিশোধ করা হয়? সত্যি বলতে কি প্রাপকের কাছে কিন্তু টাকা যায় না, যায় একটা মেসেজ মানে ভার্চুয়াল বার্তা, আর প্রাপকের হাতে দেয়া হয় ফিজিক্যাল মুদ্রা মানে নগদ টাকা। প্রকৃতপক্ষে, বিকাশ, শিওরক্যাশ, রকেট এগুলো সবই ব্যাংক নিয়ন্ত্রিত অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত টাকা লেনদেনের একটি বিশেষ ব্যবস্থা।

 

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কি?

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা পেমেন্ট প্রসেসর হল এমন একটি অনলাইন সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনার গ্রাহক তার ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আপনাকে যে কোন জায়গা থেকে স্বশরীরে না এসে পেমেন্ট করতে পারবে, কাস্টমারকে আপনার কাছে আসতে হবে না এবং এই পেমেন্ট আপনি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি উঠাতে পারবেন । উন্নত দেশে সকল প্রকার কেনাবেচা এখন আনলাইনে হয়ে থাকে এবং সকল প্রকার পেমেন্ট তারা অনলাইনে গ্রহন করে থাকে । অনলাইনে পেমেন্ট গ্রহণ বা পেমেন্ট প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাপী রয়েছে অসংখ্য পেমেন্ট প্রসেসর বা পেমেন্ট গেটওয়ে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত যেসকল পেমেন্ট প্রসরের নাম সর্বাগ্রে বলতে হয় তা হলো- Paypal, Payza, PerfectMoney, Payeer, Payoneer, Neteller, Skrill, Bitcoin ইত্যাদি।

কেন এবং কিভাবে এই পেমেন্ট গেটওয়ে এর উদ্ভব?

মূলতঃ ই কমার্সসের সূচনা হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট এর মাধ্যমে। এতে পন্য ক্রয় বিক্রয় এসেছে আরো অনেক পরে। প্রখম দিকে বি টু বি বা বিজনেস ফার্মের সাথে বিজনেস ফার্মের লেনদেন ও ব্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবহারিক ই কমার্স শুরু হয়। এখানে বিভিন্ন বিলিং বিশেষ করে বিমান টিকেট ক্রয়ের কথা উল্লেখ করা যায়। সেক্ষেত্রে আজ অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে দাতা এবং গ্রহীতার ব্যাংকদ্বয় লেনদেনের অংশ হওয়ার পরও আরো দুটি মাধ্যম এ পক্রিয়ায় জড়িত এক কার্ড ও পেমেন্ট গেটওয়ে। তখন এতসব আয়োজন না থাকলেও এককভাবে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর কারণ এটা শুধু ২টি পক্ষের লেনদেন ছিলো আর ছিলো সেবা ভিত্তিক। কোন কোন ক্ষেত্রে এটা শুধু পন্য বা সেবা পছন্দ করার জন্য ব্যবহার করা হতো।

 

সাধারণ লেনদেন এবং অনলাইন পেমেন্টঃ

সাধারণ লেনদেনের সাথে এর পার্থক্য হচ্চে এই লেনদেন করার জন্য দাতা বা গ্রহীতাকে স্বশরীরে সাক্ষাত করতে হয়না। অনলাইন বা ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে লোকেরা যেসব লেনদেন করে থাকে তাকে অনলাইন পেমেন্ট বলে। অনলাইন পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে অর্থের একটা ভার্চুয়াল লেনদেন সংগঠিত হয়। আমাদের দেশে অনলাইন গেটওয়ে বা ওপিজি এর ইতিহাস খুব বেশী পুরনো নয় এবং ব্যবহারের দিক থেকেও খুব বেশী বিস্তৃত নয়। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এমন একটি মাধ্যম যাতে আপনি অনলাইনে ডিজিটাল ফরম্যাটে লেদদেন করতে পারেন। মার্চেণ্ট হিসেবে আপনি গ্রাহকের কাছ থেকে পন্য বা সেবার মূল্য গ্র্রহণ করতে পারেন। আর গ্রাহক তার ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, অনলাইন ব্যাংকিং এর সাহায্যে আপনাকে যেকোন স্থান থেকে মূল্য পরিষোধ করতে পারে। উন্নত বিশ্বে সকল প্রকার কেনাবেচা আজকাল আনলাইনে এবং কার্ডের মাধ্যমে হচ্ছে। ক্রেতারা যেমন অণলাইনে পে করতে অভ্যস্ত তেমনি মার্চেন্টরাও অনলাইনে অর্থ গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। এটা নিরাপদ ও স্বচ্চন্দময়, কারণ ২টি পক্ষের মাঝখানে ব্যাংক পুরো প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করছে।

 

ওপিজি, বাংলাদেশ স্টাইলঃ

বিদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে বাংলাদেশি কোন কার্ড কাজ করেনা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেস্টি্কশান রয়েছে। বাংলাদেশের এবং দেশের বাইরের কার্ড এদেশের অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েতে কাজ করতে হলে লোকাল অনলাইন পেমেন্টগেটওয়ে সার্ভিস নিতে হবে। তখন পে করা অর্থ মাচেণ্ট হিসেবে আপনার ব্যাংকের বিজনেস অ্যাকাউন্ট জমা হবে। সাধারণত দেশী অনলাইন পেমেন্টগেটওয়েতে দেশি বিদেশি সব ভিসা মাস্টার কার্ড কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে কিছু বাড়তি নিয়ম রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে বাংলাদেশী গেটওয়ে ব্যবহার করে পে করতে চাইলে তাকে তার জাতীয়তা প্রমানের কাগজপত্র পেশ করতে হয়। আর এই লেনদেনের মাত্রা ও অংক একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে হবে।

 

ওপিজি চার্জঃ

বিশ্বের সকল অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতি ট্রানজেকশন এর সাথে একটা চার্জ নিয়ে থাকে। এর শতকরা হার ৩-৭% পর্যন্ত হয় হতে পারে। তবে বাংলাদেশী গেটওয়েগুলো সাধারণত কম চার্জ করে থাকে। এর পরিমাণ ২.৮% থেকে ৪ শথাংশ পর্যন্ত। এছাড়া দেশীয় গেটওয়ে গুলো শুরুতে একটা রেজিস্ট্রেশান ফি নিয়ে থাকে। কখনো কখনো বিশেষ অফারের আওতায় এই ফি না নিয়েও ওপিজিগুলো রেজিস্ট্রেশান এর সুযোগ দেয়।

 

মার্চেন্ট এর আইডেন্টিফিকেশানঃ

আপনি যখন অনলাইন পেমেন্টগেট ওয়েব রেজিস্টার করবেন তখন আপানাকে মার্চেন্ট আইডি দেয়া হবে। আপনি চাইলে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর বিপরীতে এাকাধিক মার্চেন্ট আইডি নিতে পারনে। এবং শুধু যে ইকমার্স ব্যবসায়ীরা পেমেন্ট গেটওয়ে নেবে তা নয়। অফলাইনে যারা ব্যবসা করেন যাদের একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে তারাও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নিতে পারেন একই পক্রিয়া অনুসরণ করে।
আপনি একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যাক্তা হিসেবে বিদ্যমান আ্ইনের আওতায় অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা নেয়ার জন্য সর্ব প্রথম ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রেড বা ব্যবসা থাকতে হবে, থাকতে হবে তার একটি বৈধ লাইসেন্স। আপনার থাকতে পারে লিমিটেড কো মম্পানি হিসেবে জয়েন্ট স্টক যেকোন একটি নিবনবন্ধণ, এটা ইউনিয়ন পরিষদ, সিটিকরোরেশন বা পৌরসভা যেকোন কতৃপক্ষের দ্বারা ইস্যুকৃত হতে পারে। দরকার হবে জাতীয় পরিচয় পত্র, টিআইন সনদ এবং এ কটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যা আপনার ফার্মের নামেই হবে।

 

বাংলাদেশের কয়েকটি ওপিজিঃ

বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট অপশন গুলো হলো ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, নেক্সাসকার্ড, বিকাশ, রকেট, মোবাইলব্যাংক, ইসলামিব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং, শিওরক্যাশ এবং কিউক্যাশ ইত্যাদি। এছাড়া আরও অনেক অনলাইন পেমেন্ট পেমেন্টে গেটওয়ে আছে যেমন-

ইজিপেওয়ে: বাংলাদেশের চালু ওপিজি এর মধ্যে অন্যতম ইজিপেওয়ে শুরু থেকেই ই কমার্স উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে কাস্টমারদের অনলাইনে পেমেন্ট দিয়ে কেনাকাটায় আগ্রহী করার চেস্টা করে আসছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কথা ভেবে ইজিপেওয়ে বিভিন্ন সময় তাদের সার্ভিস অফার করে থাকে।

এসএসএল: শুরুর দিকের কোম্পানী হিসেবে এসএসএল বহু মার্চেন্টকে সেবা দিয়ে আসছে। বিভিন্ন মার্কেটিং কৌশলে তারা তাদের মাচেন্টদের আকৃষ্ট করে থাকেন। যদিও সব ওপিজিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে চলতে হয় তথাপি অন্য ওপিজিগুলোর মতো এসএসএলও সার্ভিস ও সুবিধার ক্ষেত্রে মার্চেন্টদের কথা বিবেচনায় রাখে। বাংলাদেশে ওপিজি জনপ্রিয় করতে এসএসএল কাজ করছে।

ওয়ালেটমিক্স: অল্পদিনের মধ্যে ওপিজি সেক্টরে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে ওয়ালেটমিক্স। ই ক্যাব সদস্যদের জন্য সর্বপ্রথম নিবন্ধন ফি ছাড়া ওপিজি সেবার ঘোষণা দেয় ওয়ালেটমিক্স। মার্চেন্টদের সুবিধা অসুবিধাগুলো খুব ভালোভাবে দেখেই এখানে অপারেশন পরিচালিত হয়। ই কমার্সকে আরো জনপ্রিয় করতে ওয়ালেটমিক্স বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে খাকে। কাস্টমারের প্রতি কেয়ার করেই তাদের পথচলা।