পিপিসি/পিটিসি

অনেকেই বলে থাকেন, পিটিসি সাইট মানেই ধোঁকা বাজি । যারা এটা বলেন তাদের ক্ষেত্রে আমি বলবো, তারা নিশ্চয় কোথাও ধরা খেয়েছেন, মানে চুন খেয়ে মুখ পুড়ে এখন দই দেখেও ভয় পান। নয়তো তারা আসলে পিটিসি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। একথা ঠিক যে, হাজার হাজার পিটিসি সাইটের মধ্যে বেশীর ভাগই বলতে গেলে ৯৯.৯৯% ভুয়া মানে টাকা দেয় না, ধোকা দেয় কিন্ত সবগুলো নয়। সঠিক সাইট বেছে নিয়ে ধৈর্য্য ধরে কাজ করলে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ ডলার আয় করা খুব একটা কঠিন নয়। কিন্তু সমস্যাটা হলো আসল সাইট চিনতে পারা।

২০০৩ সালে সর্ব প্রথম England এ PTC সাইট চালু করা হয় তখন পিটিসি সাইট জনপ্রিয় হয়নি। এর পর ২০০৭ সালে আমেরিকা থেকে Jim Grago কর্তৃক ClixSense চালু করা হয়। ২০০৮ সালে পর্তুগাল থেকে Neobux নামক সাইটটি চালু করা হয় বর্তমানে আমেরিকায়ও এর অফিস আছে। আর এখন ২০১৭ সালে কত হাজার যে পিটিসি সাইট চালু হয়েছে তার হিসেব দেয়া প্রায় অসম্ভব। তবে ভুয়া কিংবা আসল যাই হোকনা কেন সব পিটিসি সাইটের কাজের ধরণ প্রায় একই রকম। সব পিটিসি সাইটের দুটো কমন উপাদান হলো ইনভেস্ট কর ও রেফার কর। এবার বুঝতেই পারছেন, ভুয়া সাইটে ইনভেস্ট করা মানেই হলো পুজি পাট্টা গায়েব। আর যদি সাইটটি আসল হয় তাহলে গাটের টাকা ইনভেস্ট না করে ওখান থেকে উপার্জন করে ওখানেই ইনভেস্ট করে একটা দীর্ঘ সময় অতিক্রম করার পর সম্মানজনক উপার্জন করার একটা সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর ধৈর্য।

Neobux এবং ClixSense সাইট দুটিকে বলা হয় ফাদার অব পিটিসি সাইট। শুরু থেকে অদ্যাবধি সাইট দুটো চালু আছে এবং লক্ষ লক্ষ লোক সাইট দুটো থেকে উপার্জনও করছে। তবে প্রতিদিন যতজন এসব সাইটে তালিকা ভূক্ত হয় তাদের বেশীর ভাগই কয়েকদিন কাজ করার পরই উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন কাজ করার সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে।

পিটিসি সাইট থেকে উপার্জন করতে আপনার প্রথম দায়িত্ব হবে-

১. সাইটটি ট্রাস্টেট কি না তা জানার চেষ্টা করা এবং সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া।

২. ভুয়া সাইট বুঝতে পারলে ওটা থেকে দূরে থাকা এবং আসল বিবেচিত হলে উক্ত সাইটে কাজ করার জন্য প্রদত্ত টার্মস এন্ড কন্ডিশনগুলো মনোযোগ সহকারে পড়া এবং বুঝা।

৩. কোন ট্রাস্টেট সাইটে কাজ শুরু করলে নিয়মিত রুটিন মাফিক কাজ চালিয়ে যাওয়া।

মনে রাখবেন সব পিটিসি সাইটে কাজ করার ধরণ প্রায় একই। আসলে কোন পিটিসি সাইটেই কেবলমাত্র ক্লিক করে পর্যাপ্ত উপার্জন সম্ভব নয়। কেননা, এধরণের ব্যবস্থা কোন সাইটেই নাই। তবে উপার্জন বাড়ানোর জন্য ক্লিক এর প্রায় সব সাইটেই কিছু বাড়তি কাজ ও বাড়তি সুযোগ দেয়া থাকে। যদি পিটিসি সাইটে কাজ করতেই হয় তাহলে উক্ত সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত। যেমন- অনেক সাইটে কিছু মিনি জব কিংবা সার্ভে দেয়া থাকে। যে কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পাদন করলে ওখান থেকে বাড়তি আয়ের সুযোগ আছে। আবার কোন সাইটে গ্রিড বা বোনাস ক্লিক এর ব্যবস্থা আছে। ঐসব গ্রিড বা বোনাস লিঙ্কে লিংকে ক্লিক করলে অনেক সময় একটা বড় ধরণের এমাউন্টও মূল একাউন্টে জমা হতে পারে। ওগুলো মূলত: কিছুটা অন্ধকারে ঢিঁল ছোড়ার মত, যদি লাইগ্যা যায় তো গুটি ফিট, নচেৎ পুরোটাই পন্ডুশ্রম।

সব মিলিয়ে পিটিসি সাইট যদি ট্রাস্টেট হয় তাহলে সেসব সাইটে কাজ করা যেতেই পারে তবে অবশ্যই কাজ শুরু করার পূর্বে ভালভাবে তাদের নিয়ম-কানুনগুলো পড়ে নিতে হবে। বিশেষ করে যারা বিশেষ কোন কাজে দক্ষতা অর্জন না করেই আউটসোর্সিং এর চেষ্টা চালাচ্ছেন কিংবা বহু চেষ্টা তদবির করেও মার্কেটপ্লেস থেকে কোন কাজ যোগার করতে না পেরে হতাশ হেয়ে পড়েছেন তারা পিটিসি সাইট নিয়ে ভাবতেই পারেন।

সব ধরণের পিটিসি সাইটে যেসব কাজ করার সুযোগ থাকে তার সময়কাল শুধুমাত্র ক্লিক ক্ষেত্রে প্রায় ৫ থেকে ১০ মিনিট এর মত অর্থাৎ ৫ থেকে ১০ মিনিট কাজ করলেই নির্ধারিত ক্লিক এর কাজ শেষ হবে। তাই পিটিসি সাইটে কাজ করতে হলে একটি সাইটে কাজ না করে বরং ৫-১০ টি ট্রাস্টেট সাইট খুজে নিয়ে কাজ করতে পারেন। প্রায় সকল সাইটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ক্লিক থেকে দৈনিক উপার্জন হতে পারে ৫ থেকে ৫০ সেন্ট। ধরুন আপনি যদি ১০টি সাইটে কাজ করেন এবং গড়ে যদি প্রতিটি সাইট থেকে ২০ সেন্ট করে আসে তাহলে ১০টি সাইটে মোট পাবেন (২০x১০)= ২০০ সেন্ট সানে ২ ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় হবে ১৬০ টাকার মত এবং মোট সময় ব্যয় হবে (১০x১০)=১০০ মিনিট মানে ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট। অর্থাৎ দৈনিক ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট ঘরে বসে ব্যয় করে আপনি ১৬০ টাকা আয় করতে পারছেন। অংকটা বড় নয় কিন্তু এটি একটি বাড়তি আয়ের উৎস হতেই পারে কারণ এ কাজটি করতে গিয়ে আপনার অন্য কোন কাজের ক্ষতি হবে না। অন্যদিকে ঐসব সাইটে যেসকল বাড়তি কাজ দেয়া থাকে সেগুলো করতে পারলে নিঃসন্দেহে একটা সম্মানজনক আয় করতে পারেন।

যারা পিটিসি সাইটে কাজ করতে চান তাদের জন্য নিম্নে কতগুলি ট্রাস্টেট সাইটের লিংক দেয়া হলো। আপনারা চাইলে সাইটগুলোতে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারেন। প্রত্যেক সাইটেই কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া থাকে কাজ করতে চাইলে অবশ্যই উক্ত নির্দেশনাগুলো আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। এছাড়াও সারা বিশ্বে তো বটেই বাংলাদেশেও অনেকে আছেন যারা পিটিসি সাইট থেকে ভাল উপার্জন করছেন। সুতরাং কোন সাইটে কিভাবে কাজ করলে ভাল উপার্জন করতে পারবেন সে বিষয়ে গাইডলাইন বা টিউটোরিয়াল পেতে আপনার কোন সমস্যাই হওয়ার কথা নয় যদি আপনার চেষ্টা থাকে। তাছাড়া অত্র সাইটের টিউটোরিয়াল পেজটিতেও বিভিন্ন সাইটে কাজ করার জন্য টিউটোরিয়াল পাবেন বলে আশা করছি।

বিগত পাঁচ বছর ধরে স্ট্যাডি করে যে কয়টি নির্ভরযোগ্য পিটিসি সাইট আমি দেখতে পেয়েছি তাদের মধ্য থেকে কয়েকটির লিংক নিচে দেয়া হলোঃ

১. Neobux রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন।
২. ClixSense রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন।
৩. PaidVerts রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন।
৪. OjOOOWad রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন।

৫. ক্লিক সেন্স, রেজিস্ট্রেঠশন করতে এখানে ক্লিক করুন।

অনেকে বলেন, পিটিসি সাইটে কাজ করে ইন্টারনেট খরচই উঠে না, কথা সত্য। কিন্তু আমার কথা হলো আপনি টাকা খরচ করে পিটিসি সাইটে কাজ করবেনই বা কেন। আপনি যদি পিটিসি সাইটে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে আউটসোর্সিং এর স্বপ্ন দেখেন সেটা অবশ্যই আপনার মূর্খতা বলেই আমি মনে করি। কারণ আগেই বলেছি, আউটসোর্সিং মার্কেটটি হলো দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য অদক্ষদের জন্য নয়। আবার এটাও সত্য যে, কাজ না করে তো দক্ষতা অর্জন করা যায় না। আপনি একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তার মানে আপনি দক্ষ হয়েছেন এটা একেবারেই অবান্তর। কেননা, প্রশিক্ষণ নেয়া হয় কাজ শেখার জন্য আর দক্ষতা অর্জিত হয় কাজ করতে করতে। অর্থাৎ প্রশিক্ষণ নিয়ে আপনি বসে থাকলে কখনোই দক্ষ হতে পারবেন না, এজন্য আপনাকে নিয়মিত কাজ করতে হবে। কিন্তু কোথায় পাবেন সেই কাজ? আউটসোর্সিং করতে হলে মার্কেটপ্লেসই হতে পারে আপনার জন্য উত্তম জায়গা। মার্কেটপ্লেস এ কাজ পাওয়ার জন্য তিনটি বিষয় অধিকতর গুরুত্ব বহন করে ১. একটি সুন্দর ওভারভিউ ২. পোর্টফলিও যুক্ত করণ ৩. বেশী বেশী স্কিল টেস্ট প্রদান। তাই প্রশিক্ষণ নিয়ে বসে না থেকে আপনাকে অবশ্যই মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শুরুতে কোন বড় কাজের স্বপ্ন না দেখে বরং ছোট ছোট কাজগুলো ধরার চেষ্টা করুন। আপনার লক্ষ্য স্থির থাকলে বিধাতা কখেনোই আপনার থেকে মুখ ফেরাবেন না।

এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, চেষ্টা চালানোর জন্য আপনাকে অবশ্যই ইন্টারনেটের মাঝে ডুবে থাকতে হবে। তার মানে আপনি যতদিন মার্কেটপ্লেসে জায়গা করে নিতে পারেননি ততদিন মার্কেটপ্লেসে চেষ্টার পাশাপাশি পিটিসি সাইটে কাজ করতেই পারেন। মানে পিটিসি সাইটে কাজ করার জন্য আপনার বাড়তি টাকা খরচ করার কোন প্রশ্নই আসে না বরং নতুন নতুন অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে।

আপনি হয়তো বলবেন, মার্কেটপ্লেসে চেষ্টা করলে কাজ পাব তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়? হ্যাঁ, নিশ্চয়তা নেই, এ ভাবনাটা কেবল অদক্ষদের জন্য প্রযোজ্য, দক্ষদের জন্য নয়। আপনি যদি ধরেই নেন যে, চেষ্টা করেও আপনার পক্ষে মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়া সম্ভব নয়, তাহলে আমিও ধরে নিচ্ছি যে আউটসোর্সিং জগতে কাজ করার জন্য আপনি উপযুক্ত নন, সেক্ষেত্রে আপনার জন্য বিকল্প পথ খোঁজাই যুক্তিসঙ্গত। বলবেন চেষ্টা করাকালীন ইন্টারনেট বাবদ যে টাকা খরচ হবে তা কি ভুতে যোগাবে? আমিও বলবো, ২৫ বছর ধরে আপনার লেখাপড়ার পিছনে যে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে তা কি ভুতে যুগিয়েছিল? কী দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করার বিনিময়ে পিতা-মাতাকে? উল্টো চাকরি কেনার জন্য আরো কয়েক লক্ষ টাকা দাবী করছেন বাবা-মার কাছে। আর যেসব শিক্ষার্থী ছাত্রজীবন থেকেই ধুমপানের অভ্যাস করেছেন, আমি বলবো, তারা ধুমপান বাবদ মাসে যে টাকা খরচ করেন তার অর্ধেক টাকাও খরচ হবেনা নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করতে। অথচ দেখুন ধুমপান করে আপনি স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়া ছাড়া আর কিছুই পাবেন না বরং নিয়মিত ইন্টানেট ব্যবহার করে আপনি যেমন ভবিষ্যত গড়ার সুযোগ পেতে পারেন, তেমনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বহুমুখী জ্ঞানার্জনের সুযোগ থাকায় পবেন অনাবিল আনন্দ।

আপনি একজন ফ্রীল্যান্সার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে আপনাকে মার্কেটপ্লেসেই কাজ করতে হবে। যেহেতু রাতারাতি মার্কেটপ্লেসে জায়গা করে নেয়া খুব একটা সহজ কাজ নয় তাই চেষ্টা চালিয়ে যান এবং এর মাঝে কিছুটা সময় পিপিসি এবং বিট কয়েন আর্নিং এর পিছনে ব্যয় করতে পারেন। কে জানে, হয়তো পিপিসি এবং বিট কয়েনও আপনার ভাগ্য বদলে দিতে পারে। মার্কেটপ্লেস, পিপিসি, বিট কয়েন যেখানেই কাজ করুন না কেন, অবশ্যই স্ব স্ব সাইটের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন তথা টার্মস এন্ড কন্ডিশনগুলো ভালভাবে স্ট্যাডি করে যথাযথ ভাবে অনুসরণ করে অগ্রসর হলে দেখবেন আপনার সফলতা কেউ ঠেকাতে পারবে না।